ঢাকা , শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ , ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর মোহনপুরে মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি পরিদর্শন করেন কৃষি সচিব সেলিম খাঁন তানোরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে কলা গাছ নিধন রামের ডায়েট থেকে বাদ ফল! ওজন হ্রাসের জন্য কেবল এক ধরনের খাবারই থাকে থালায়, কী সেটি স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বাবা-মায়ের পাশেই তৃষা, দর্শকাসনের প্রথম সারিতে অভিনেত্রী ‘আমি তো চুম্বনও করিনি, কোনও অশালীনতা নেই’, কিয়ারার সঙ্গে উষ্ণ দৃশ্য নিয়ে আর কী বললেন যশ? পুলিশের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের গোলাগুলি ভোলার নদ-নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ পাওয়ায় জেলে পাড়ায় উৎসবের আমেজ দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বাবা-ছেলের বিরোধ, পরে মিলল বৃদ্ধের মরদেহ মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় নারীসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম  জয়পুরহাটে যুবকের মরদেহ উদ্ধারের পর আহত মাজেদুলের লোমহর্ষক বর্ণনা পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিবেশীকে ফাঁসানোর নাটক, অতঃপর... ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতের হানা, গৃহবধূ নিহত আকিকার মাংসের লোভ দেখিয়ে নারীর সোনা নিয়ে গেলেন সম্রাট চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ইয়াবাসহ ৫ জন আটক মায়ের কিডনিতে প্রাণে বাঁচলেও থমকে গেছে সুজনের ভবিষ্যৎ অবসর সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী যেভাবে গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী হয়ে ওঠেন খালেদা জিয়া রাণীশংকৈলে মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অনুষ্ঠিত আইএইচটি রাজশাহীর সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত, উদযাপন কমিটি ঘোষণা কালু মিস্ত্রির মোড়ে অনার্স পড়ুয়া ছাত্রীকে ইভটিজিং: কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার

মায়ের কিডনিতে প্রাণে বাঁচলেও থমকে গেছে সুজনের ভবিষ্যৎ

  • আপলোড সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ০৫:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ০৫:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন
মায়ের কিডনিতে প্রাণে বাঁচলেও থমকে গেছে সুজনের ভবিষ্যৎ মায়ের কিডনিতে প্রাণে বাঁচলেও থমকে গেছে সুজনের ভবিষ্যৎ
সন্তানের জীবন বাঁচাতে মা নিজের কিডনি দিয়েছেন। সেই কিডনি প্রতিস্থাপনের পর মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন ছেলে সুজন সরদার (৩০)। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থের সংকট। নিয়মিত ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ জোগাতে না পেরে তার চিকিৎসা এখন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিরাশি গ্রামের দিনমজুর আনিছ সরদারের ছেলে সুজন। আট সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বাবা। দিনভর বিভিন্ন জায়গায় শ্রম বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়েই কোনোরকমে চলে সংসার। সেখানে ছেলের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় যেন পরিবারের কাছে অসহনীয় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সুজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা চললেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে তাকে খুলনার বেসরকারি সিটি হাসপাতাল এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, সুজনের কিডনির জটিলতা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুটি কিডনি নষ্ট বলে জানান চিকিৎসক। ফলে তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হতো। একসময় শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকেরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। এমন পরিস্থিতিতে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য সুজনকে ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন সন্তানের জীবন বাঁচাতে মা মমতাজ বেগম নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মমতাজ বেগমের কিডনি সুজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। সফলভাবে অস্ত্রোপচার শেষে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন সুজন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও ডায়ালাইসিসের কষ্ট পেরিয়ে তিনি ফিরে পান নতুন জীবন।

এদিকে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর সুজনের পরিবার ভেবেছিল, এবার হয়ত দুঃসময় কিছুটা কাটবে। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কিডনি প্রতিস্থাপনের পরও দীর্ঘদিন নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো হাসপাতালে গিয়ে ফলোআপ করাও জরুরি। এসব চিকিৎসা ব্যয়বহুল। সুজনের পরিবার এত দিন ধারদেনা, আত্মীয়স্বজন ও মানুষের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে এসেছে। পরিবারের দাবি, এ পর্যন্ত তার চিকিৎসার পেছনে প্রায় ১৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন প্রতিমাসে শুধু ওষুধ কিনতেই প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচ। দিনমজুর বাবার পক্ষে এসব ব্যয় বহন করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সুজনের বাবা আনিছ সরদার বলেন, ছেলের জীবন বাঁচাতে তার মা নিজের কিডনি দিয়েছে। এত টাকা খরচ হবে, কখনো ভাবিনি। ধারদেনা করে, মানুষের সহযোগিতা নিয়ে এতদিন চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন আর পারছি না।

তিনি বলেন, আমি দিনমজুরি করি। সারাদিন কাজ করে যে টাকা পাই, তা দিয়ে আট সদস্যের সংসার চালাতে হয়। একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে ছেলের ওষুধ ও চিকিৎসা। কোনটা রেখে কোনটা করব বুঝতে পারছি না।

সুজনের মা মমতাজ বেগম বলেন, ছেলেকে বাঁচাতে আমার কিডনি দিতে পেরেছি, কিন্তু এখন টাকার অভাবে তার চিকিৎসা চালাতে পারছি না। আমার ছেলে যেন ভালো থাকে, স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারে, এটাই আমার চাওয়া। মানুষের সহযোগিতা পেলে ওর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারব।

পরিবারটির আবেদন, সমাজের বিত্তবান মানুষ, প্রবাসী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যেন সুজনের চিকিৎসার পাশে দাঁড়ান। তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা পেলে নিয়মিত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে পরিবারটি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কালু মিস্ত্রির মোড়ে অনার্স পড়ুয়া ছাত্রীকে ইভটিজিং: কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার

কালু মিস্ত্রির মোড়ে অনার্স পড়ুয়া ছাত্রীকে ইভটিজিং: কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার